ফেনীতে আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন কি ও কেন?

বিভিন্ন কারণে পীরজাদী ফাউন্ডেশন কৃর্তক এখন আর আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্বেলন অনুষ্ঠিত না হলেও ফেনীতে আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলনের সপ্নদ্রষ্টা ও প্রথম বাস্তবায়নকারী ছিলো- অত্র ফাউন্ডেশন এবং ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব নুরুল ইসলাম রাজ্জাকী সাহেব।

আর বিশেষভাবে, সাহায্যকারি হিসেবে ছিলেন- বিশিষ্ট শিল্পপতি, জনাব মোঃ অহিদুর রহমান সাহেব এবং ফেনীর তত্'কালীন ডিসি, জনাব নূরল ইসলাম সাহেব।

 

নিচে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্বেলনের প্রচারনার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত একটি হ্যান্ডবিলের লেখার অনুরূপ লেখা দেয়া হল-

 

(কভার)

বিছমিল্লাহ হির রহমানির রাহিম

 

 

 

ফেনীতে আন্তর্জাতিক

ক্বেরাত সম্মেলন কি ?

ও কেন?

 

 

 

 

 

 

 

 

 

প্রচারে:-

পীরজাদী সাজেদা খাতুন ফাউণ্ডেশান-ফেনী।

প্রথম প্রকাশকাল- ১লা নভেম্বর-' ৯৫ ইং

 

 

 

 

 

 

(পাতা-১)

আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন কি ও কেন? এ বিষয়ের উপর কিছু বলতে গেলে প্রথম বলতে হয় এলমে কেরাতের কথা ও তার প্রয়োজনীয়তা। শুদ্ধভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা ওয়াজিব।

 

পবিত্র কোরআন সহীশুদ্ধ পাঠের প্রয়োজনীয়তা সর্বজন সমন্বিত। শুদ্ধরূপে পবিত্র কোরআন পাঠ না করলে মুসলমানদের প্রধান ইবাদত নামাজও কবুল হবেনা। মুসলমানদের প্রতি লক্ষ্য করে আল্লাহর রাসুল (দঃ) ঘোষণা করেছেন- “তোমাদের উচ্চারণ দ্বারা পবিত্র কোরআনকে সুন্দর কর যেহেতু সুন্দর স্বরে উচ্চারণ পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে”। অপর এক ভাষায় আল্লাহর রাসুল (দঃ) ঘোষণা করেন "যে সুন্দর করে পবিত্র কোরআন পড়ে না সে আমার উম্মতভুক্ত নয়"।

 

এছাড়া শুদ্ধ ও সুন্দর উচ্চারণ করতে না পারলে পবিত্র কোরআন উচ্চস্বরে পাঠ করা ও নিষেধ আছে। আরব দেশে প্রাথমিক অবস্থায় পবিত্র কোরআনের আয়াত উচ্চ স্বরে পাঠ করাই ছিল ইসলাম প্রসারের অন্ততন্ত্র উপায়। কোরআনের ভাষার সাথে এলাকাবাসীদের ভাষার মিল থাকার কারনে শুধু কোরআন পাঠ শুনেই হাজার হাজার মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনের কেরাত সম্মেলন পক্ষান্তরে ইসলাম প্রচারের অন্যতম মাধ্যম। তাই প্রত্যেক মুসলমানেরই শুদ্ধভাবে ও নিয়ম মোতাবেক কোরআন পাঠের প্রতি মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

 

তাই পবিত্র কোরআনকে সহি শুদ্ধরূপে পাঠ করতে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এই অন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলনের আয়োজন। এক কথায়, আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন মানে- বিশ্ব কারীদের মুখে পবিত্র কোরআনকে সহি শুদ্ধরূপে শুনার উপায়।

 

কেন এ কেরাত সম্মেলন? এ কেরাত সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য ফেনী ও তার পার্শ্ব এলাকার পবিত্র কোরআন প্রিয় মুসলমানদেরকে কোরআনের সহি শুদ্ধ তেলাওয়াতে প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য উৎসাহিত করা। বিশ্বের বিভিন্ন

(পাতা-২)

দেশের কারীদের মুখে পবিত্র কোরআন শ্রবণের পর পবিত্র কোরআনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। কমপক্ষে এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ব কারীদের পঠিত আয়াত বা ছূরাসমূহ ওডিও ক্যাসেট করে পরবর্তীতে বার বার শুমার মাধ্যমে একজন মুসলমান শুদ্ধ কেরাত পাঠ করে। দৈনন্দিন নামাজ আদায়ের জন্য তৈরী হতে পারবেন।

এ ছাড়া ও আমাদের দ্বিতীয় একটি উদ্দেশ্য নিহিত আছে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি আমরা একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ করতে চেষ্টা করছি।

 

ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও পরিচিতিঃ

এই ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি প্রথমে প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়াহেদপুর (দেবীপুর) নিবাসী মৌলভী আবদুর রাজ্জাক প্রাক্তন এম, এল, এ, সাহেবের প্রথমা স্ত্রী লেমুয়া নিবাসী টুনাগাজী পাটোয়ারী বাড়ীর জনাব ওয়াসিল মোক্তেয়ার এর তৃতীয়া মেয়ে জনাবা শরাফাতের নেছার প্রচেষ্টায় ওয়াহেদপুরস্থ মৌলভী বাড়ীর আঙ্গিনায় ১৯০০ ইং সালের এক শুভ প্রভাতে। পরবর্তীতে এক পুত্র সন্তান রেখে জনাবা শরাফাতের নেহা ইহকাল ত্যাগ করেন। জনাবার মৃত্যুর কারনে ২/১ বৎসর ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি সাময়িক বন্ধ থাকার পর মৌলভী আবদুর রাজ্জাক সাহেবের দ্বিতীয়া স্ত্রী (লস্কর হাট) মোটবী মুন্সী বাড়ী নিবাসী মৌলভী আশ্রাফ আলী মুন্সীর দ্বিতীয়া মেয়ে জনাবা শরাফাতের নেছা (২য় শরাফাতের নেছা)। পূনরায় ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি চালু করেন। উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয়া শরাফাতের নেছা শহীদ মেজর ছালাহ উদ্দিনের সম্মানিতা নানী।

 

জনাবা দ্বিতীয়া শরাফাতের নেছা দীর্ঘদিন পরিচালনার পর ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটি বুঝিয়ে দেন প্রথমা শরাফাতের নেছার রেখে যাওয়া (একমাত্র পুত্র সন্তান) পুত্র বধু হাকিম মৌলভী আবদুর রউফ সাহেবের ধার্মিকা স্ত্রী বঙ্গের অলিকুল শিরমণি দুধমূখার পীর হযরত মাওলানা মরহুম এছহাক সাহেবের মেঝে মেয়ে পীরজাদী সাজেদা খাতুন এর হাতে ১৯৩০ ইং সালের প্রথম দিকে।

 

(পাতা-৩)

পীরজাদী সাজেদা খাতুন তখন থেকে অদ্যাবধি তাঁর নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় মাদ্রাসাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছেন সম্পূর্ণ অবৈতনিক ও চাঁদামুক্ত হিসেবে। যেহেতু মাদ্রাসাটি সূচনা থেকে অবৈতনিক ও সম্পূর্ণ চাঁদামুক্ত দেহেতু মাদ্রাসার উল্লেখযোগ্য কোন সম্পদ নেই। তবে হাকিম মৌলভী আবছর রউফ সাহেবের দানকৃত ৪ শতাংশ জমি ও শহীদ মেজর ছালাহ উদ্দিনের মায়ের দেয়া ১২ শতাংশ জমি এবং ২০/২৫ জন ছাত্রছাত্রী বসতে পারে মত দোচালা একটি টিনের ঘর আছে। অল্প সম্পদ ও ছোট ঘর থেকে বের হয়ে চলছে দীর্ঘ ৯৫ বৎসর ব্যাপী হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী পবিত্র কোরআন ও ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা গ্রহণ করে। ফোরকানিয়া মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালিকা বর্তমান জমানার অনন্যা ধামিকা জিন্দা অলি পীরজাদীর বর্তমানে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছে গেছেন।

 

তিনি তাঁর দীর্ঘ ৬৫ বৎসরের পরিশ্রম-এর মূল্যায়ন দাবী করেেছন তাঁর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, এলাকাবাসী ও দেশ-বিদেশী সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটিকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য সকলের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

 

কেরাত সম্মেলন ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সম্পর্ক:-

যেহেতু পীরজাদীর বর্তমান দাবী ঐতিহ্যবাহী এ ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে স্থায়ীভাবে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। তাই আমরা এই ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটিকে আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে ফেনীতে আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলনের আয়োজন করছি। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলমে কেরাত বা এলমে কোরআন শিক্ষাই প্রধান উদ্দ্যে ছিল। পীরজাদীর দাবী রক্ষার্থে "পীরজাদী সাজেদা খাতুন ফাউণ্ডেশান" নামকরণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কার্যকর সংগঠন গঠন করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে পবিত্র কোরআন প্রশিক্ষণসহ ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষার আদর্শ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে

 

(পাতা-৪)

তোলার লক্ষ্যে এ আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলনের আয়োজন। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা করি এবং পীরজাদীর ধরে রাখা এই ঐতিহ্যবাহী ফোরকানিয়া মাদ্রাসাটিকে পবিত্র কোরআন শিক্ষার আদর্শ কেন্দ্রবিন্দু করে মাদ্রাসা হিসেবে গড়ে তুলি।

পীরজাদী সাজেদা খাতুন ফাউণ্ডেশান এর ভবিষ্যৎ কর্মসূচী:-

১। এ ফাউণ্ডেশানের প্রাথমিক প্রধান কাজ পীরজাদীর বাড়ীর নিকটবর্তী ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামে দেয়া ৪ শতাংশ জমির উপর একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করা।

২। এবং মসজিদ ভিত্তিক ফোরকানিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা সহ মাত্র পাঁচ বৎসরে তাফসীরুল কোরআন প্রশিক্ষণের জন্য একটি ব্যতিক্রম ধর্মীয় মাদ্রাসা পরিচালনা করা।

৩। প্রতি বছর ফেনীতে আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলনটি চালু রাখা। ফোরকানিয়া মাদ্রাসার সেই ছোট্ট দোচালা ঘরটিকে কেন্দ্র করে পীরজাদীর নির্দেশে স্থায়ীভাবে পাঠদান এবাদত ছাড়া আরো নিয়মিত যে এবাদত এর কাজ চলছে দেশবাসী বিশ্ববাসীর কল্যাণ কামনার্থে এক নজরে তার তালিকা:-

(ক) প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বা জামায়াত আদায় হয়। (প্রায় ২ বৎসর পূর্ব থেকে)

(খ) প্রতিদিন বাদ ফজর জিকির ও দোয়ার মাহফিল। (প্রায় ২ বৎসর পূর্ব থেকে)

(গ) প্রতিদিন বাদ মাগরেব তাফসীর মাহফিল (প্রায় ২ বৎসর পূর্ব থেকে)

(ঘ)  বার্ষিক পবিত্র সীরাতুন্নবী (দঃ) মাহফিল। (২৪)  বৎসর পূর্ব থেকে)

(ঙ) বার্ষিক পবিত্র আশুরা মাহফিল।  (২০ বৎসর পূর্বব থেকে)

(চ) বার্ষিক পবিত্র রামজান পূর্ব্ব তিনদিন ব্যাপী "রামজানের শিক্ষা ও আমাদের করণীয়” এ বিষয়ের উপর ওয়াজ মাহফিল। (তিন বৎসর পূর্ব থেকে)

 

প্রচারেঃ-

           মাওঃ মোঃ নুরুল ইসলাম রাজ্জাকী                                                      মোঃ অহিদুর রহমান

                    (বড় হুজুরজী)                                                                      (বিশিষ্ট শিল্পপতি)

 

আহ্বায়ক

পীরজাদী সাজেদা খাতুন ফাউণ্ডেশান ফেনী।

 

 

 

 

 

(পাতা/৪ )

পীরজাদী সাজেদা খাতুন ফাউণ্ডেশান

এর উদ্যোগে -

 

ফেনীতে প্রথম আন্তর্জাতিক:

ক্বরাত সম্মেলন-'৯৫ ইং

 

স্থানঃ ফেনী বড় মসজিদ, ফেনী।

তাং-১৮ই নভেম্বর রোজঃ- শনিবার

সময়: বাদ আছর হইতে।

 

ক্বেরাত পাঠ করবেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত

বিশ্বের ৮টি দেশের ৮জন ক্বারী সাহেবান।

 

আপনারা স্ববান্ধবে আমন্ত্রিত।

 

প্রচারেঃ-

মাওলানা মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম রাজ্জাকী

                                      (বড় হুজুরজী)

 

আহ্বায়ক,

পীরজাদী সাজেদা খাতুন ফাউন্ডেশান – ফেনী ।

 

বিঃ দ্রঃ- ক্বেরাত প্রিয় ভাইগণ সম্মেলনে পঠিত বিশ্ব ক্বারীদের ক্বেরাত রেকর্ডিং করে নিতে পারবেন।

© 2025 পীরজাদী ফাউন্ডেশন - ওয়াহেদপুর, ফেনী
profile-picture

Open Facebook

ফেসবুক অ্যাপ বা নতুন ট্যাবে খোলা হচ্ছে…